ভাঙা ডিম আর রক্তের দাগ থাকা কুসুম, কোনটি খাওয়া নিরাপদ?

প্রকাশঃ জুলাই ৯, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৪২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪২ অপরাহ্ণ

ডিমকে সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দাম বাড়ায় অনেকেই কম দামে পাওয়া ভাঙা বা ফেটে যাওয়া ডিম কিনছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। অন্যদিকে, ডিমের কুসুমে ছোট লাল বা বাদামি দাগ দেখা গেলেই যে সেটি নষ্ট, এমন ধারণাও সঠিক নয়।

ভাঙা ডিম কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

অক্ষত খোসার একটি ডিম সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে খোসা ফেটে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ফাটলের মাধ্যমে সহজেই ব্যাকটেরিয়া ডিমের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাটা ডিমে সালমোনেলাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। তাই এ ধরনের ডিম বাজারে বিক্রি করা বা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, সালমোনেলা সংক্রমণের ফলে সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর, বমি, পেটব্যথা ও পেটে খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সংক্রমণের লক্ষণ সাধারণত দূষিত খাবার খাওয়ার ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুরু হয় এবং কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।

বেশিরভাগ মানুষ চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠলেও শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজনও হতে পারে।

ফ্রিজে রাখলেও কি ঝুঁকি কমে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাঙা ডিম দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ফেটে যাওয়া ডিম কিনে ফ্রিজে রাখা বা তা দিয়ে বেকারি কিংবা আধাসেদ্ধ খাবার তৈরি করলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের মতে, ভাঙা ডিমে যদি মুরগির বিষ্ঠা বা বাইরের ময়লা লেগে থাকে, তাহলে ক্ষতিকর জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে ডায়রিয়া, আমাশয় বা খাদ্যবাহিত অন্যান্য রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।

কুসুমে রক্তের দাগ মানেই কি ডিম নষ্ট?

ডিম ভাঙার পর অনেক সময় কুসুমে ছোট লাল বা বাদামি রঙের দাগ দেখা যায়। এটি দেখে অনেকে ডিমটি ফেলে দেন। কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক একটি ঘটনা।

ডিম তৈরির সময় মুরগির ডিম্বাশয় বা ডিম্বনালির ক্ষুদ্র কোনো রক্তনালি ফেটে গেলে সামান্য রক্ত কুসুমের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এ কারণে এমন দাগ দেখা যায়।

এটি কি নিষিক্ত ডিমের লক্ষণ?

অনেকের ধারণা, কুসুমে রক্তের দাগ থাকলে সেটি বাচ্চা হওয়ার ডিম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। রক্তের দাগ থাকা মানেই ডিম নিষিক্ত, এমনটি নয়। এটি সাধারণত ডিম তৈরির সময়ের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ফল।

এমন ডিম খাওয়া নিরাপদ কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমটি যদি তাজা থাকে, দুর্গন্ধ না থাকে এবং ভালোভাবে রান্না করা হয়, তাহলে কুসুমে ছোট রক্তের দাগ থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

যাদের এমন দাগ দেখে অস্বস্তি হয়, তারা চামচ দিয়ে ওই অংশটি তুলে ফেলে দিতে পারেন। এরপর ডিমটি সম্পূর্ণ সিদ্ধ বা ভালোভাবে ভেজে খেলে সাধারণত কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

ডিমের পুষ্টিগুণ

একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৭৫ কিলোক্যালরি শক্তি, ৮ গ্রাম প্রোটিন এবং ৫ গ্রামের বেশি স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। এছাড়া এতে ভিটামিন এ, ডি, বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন বি–১২, ফসফরাস, জিংক, লুটেইন ও জিয়াজেনথিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা, হাড় ও দাঁত মজবুত রাখা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সংক্ষেপে: খোসা ফেটে যাওয়া ডিম কেনা ও খাওয়া এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। তবে তাজা ডিমের কুসুমে ছোট রক্তের দাগ দেখা গেলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ডিমটি ভালোভাবে রান্না করে খেলে সাধারণত তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

প্রতি / এডি / শাআ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G